
সম্পাদকীয়
************
আমার নাম নুরুন্নাহার বেগম, আমি ৭নং ওয়ার্ডের গুজারাই এলাকার একজন বাসিন্দ, পেটের টানে, পরিবারের মুখে হাসি ফুটাতে, একজন মহিলা হিসেবে বিদেশে গিয়ে টাকা রুজী করে আনা আমার জন্য একটা দুঃসাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহন ছিল । এরিপ্রেক্ষিতে বিগত ০৮/০৮/২০২৫ইং তারিখে আমার পরিচয় হয় নবিগঞ্জ এলাকার মহিলা (নাম লিপি বেগম) যিনি মহিলা বিদেশে নেয়ার প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থ দালাল/মিডিয়া হিসেবে কাজ করেন। লিপি বেগম আমাকে ঢাকায় নিয়ে যায় এবং পরিচয় করিয়ে দেয়, মুরাদ আহমদ নামে এক ব্যক্তির সাথে, যিনি বিদেশে মহিলা পাঠান। আপনারা হয়তো যেনে থাকবেন, বিদেশে মহিলা শ্রমিক নিতে ঐ যাত্রী মহিলার কোন খরচ লাগেনা বরং একজন মহিলা দিতে পারলে, দালাল মিডিয়া উল্টো টাকা পায়। প্রবাসে আমাকে কোন টাকা
লাগবে না বলে আমায় জানায়, কিন্তু কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর, আমার বিদেশে যাওয়ার কাজ কিছুটা এগুলে, আমাকে লিপি বেগম বলে ৩৫ হাজার লাগবে বলে জানায়।, পাসপোর্ট, আরও অন্যান্য বিষয়ে কিছু খরচ লাগে এও জানায়। আমি যেহেতু পরিবারের জন্য কিছু করার উদ্দেশ্যে বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি,তাই আমি লিপি বেগম কে বুঝিয়ে অনুরোধ সকরে সুদ করে ৩০ হাজার টাকা এনে দেই। আমি একজন গরীব অসহায় মহিলা, ভবিষ্যতে সুন্দর দিনের আশায় কষ্ট করে টাকাটা এনে লিপি বেগম এর হাতে দেই। পরবর্তীতে মুরাদ আহমেদ ও লিপি বেগম এর মাধ্যমে আমার বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে যা যা দরকার সব ঠিক করে দেয়।
মুরাদ আহমেদ আমাকে বলে যে তোমার ডিউটি ১২ ঘন্টা থাকবে এবং বিশ্রামেরও সময় থাকবে। মালিক খুব ভালো মানুষ। একটি বাসায় তোমাকে কাজ করতে হবে। আর তোমার থাকা খাওয়ারও সু-ব্যবস্থা ও কফিল করে দেবে অর্থাৎ যে, মালিকের বাসায় তুমি কাজ করবে। অবশেষে আমি গত ০৯/১০/২০২৫ইং তারিখে সৌদি আরবে গমন করি । যাবার পর ১-২ দিন ভালো যায় তারপর থেকে ঐ ঘরের মালিক আমাকে তাঁর আত্মীয় স্বজনসহ ৫-৬টি বাড়িতে কাজ করাতে শুরু করে। দিনে প্রায় ১৬-১৭ ঘন্টার উপরে আমাকে কাজ করতে হতো। আমার বিশ্রামের সময় তো পেতাম ই না বরং রাতে ঘুমাতে গেলে, রাত ১১-১২টার দিকে ডেকে তাদের কাজ করাতো। আমি অনেক সময় অসুস্থ্যতা দেখালে আমাকে বকাবকি করে ও কয়েকবার আমাকে মারধরও করেছে। তারপরও আমার পরিবারের কথা ভেবে দীর্ঘ ১ মাস ৯ দিন সব সয্য করে কাজ করেছি। অবশেষে আমি ২৩/১১/২০২৫ইং তারিখে দেশ থেকে টাকা নিয়ে, টিকেট করে পালিয়ে আসি। আমার মনে
হচ্ছিলো যদি আমি আরও ৮-১০ দিন থাকতাম তাহলে আমার মরে যাওয়ার মতো অবস্থা হতো। উল্লেখ্য যে আমি দেশে আসার পর থেকে লিপি বেগম (দালাল/মিডিয়া) ও মুরাদ আহমদ (দালাল/মিডিয়া) থেকে আমাকে অনবরত ফোন দিতে থাকে এবং বিভিন্নভাবে হুমকী দামকী দিয়ে তাদের লোকসান হয়ে গেছে বলে আমার কাছে তিন লক্ষ টাকা দাবি করে, এই সব মহিলা পাচারকারী দালালের চক্র থেকে আমাদের গরীব অসহায় মা-বোনদেন রক্ষার্থে আপনারা এগিয়ে আসবেন বলে আমি আসাবাদি। আমি সৌদি আরবে এই সব সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার পর লিপি বেগম ও মুরাদ আহমেদ কে কল দিলে তারা আমাকে বলে ধৈয্য ধরে থাকো সব ঠিক
হয়ে যাবে । কিন্তু কোন সদউত্তর পাইনি। প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা আপনারা হচ্ছেন জাতীর বিবেক, আমাদের সহায়ক। আমি নুরুন্নাহারের মতো অনেক মা বোন আছেন যারা নির্যাতিত হয়েও পরে আছেন, আপনারা তাদের পাশে দাঁড়াবেন। আমিও আপনাদেরই এক গরীব অসহায় বোন, আমাকে এই জালিমদের হাত থেকে এবং তাদের হুমকী দামকী হাত থেকে আমাকে ও আমার পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্থ করতে না পারে সেদিক থেকে আমার পাশে
থাকবেন এবং আমাকে সৎ পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করবেন।
পরিশেষে এটাই বলবো, আমি বিশ্বাস করি একজন প্রকৃত সাংবাদিকই এই সমাজে দূর্নীতি ও এসব
ধান্দাবাজদের নির্মূল করে নতুন একটি সুন্দর সমাজ গঠন করতে সক্ষম। আপনার, আপনাদের মূলবান সময় দিয়ে আমার কথাগুলো শুনার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমার এই কঠিন পরিস্থিতিতে আমার পাশে থাকবেন । এটাই আমার কাম্য ।