বিশেষ প্রতিনিধি
***************
চার দেয়ালের ভেতরেও ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হননি মৌলভীবাজার জেলা কারাগারের কারাবন্দিরা। পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে কারাবন্দিদের জন্য নানা মানবিক ও আনন্দঘন কর্মসূচির আয়োজন করে কারা কর্তৃপক্ষ।
মৌলভীবাজার জেলা কারাগারের জেলার কাজী মাজহারুল ইসলাম জানান, গত ২৮ মে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে ঈদের জামাত শান্তিপূর্ণ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে কারাবন্দিদের পাশাপাশি কারাগারের অভ্যন্তরে দায়িত্ব পালনরত কারারক্ষীরাও অংশগ্রহণ করেন। নামাজ শেষে বন্দিদের মাঝে পরিবেশন করা হয় ঈদের বিশেষ খাবার। সকালের নাশতায় ছিল মুড়ি ও পায়েস।
বন্দিরা যেন ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হন সে লক্ষ্যে বিশেষ এ আয়োজন করা হয়েছে। নামাজ আদায়ের পাশাপাশি তারা একসঙ্গে খাবার গ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন, যা তাদের মাঝে ঈদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে তোলে।
ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে কারাগারে আসা বন্দিদের স্বজনদেরও অভ্যর্থনা জানানো হয়। প্রায় শতাধিক স্বজনকে সেমাই, মুড়ি এবং শিশুদের চকলেট দিয়ে বরণ করে নেয় কারা কর্তৃপক্ষ।
বন্দিদের জন্য দুপুরের খাবারে পরিবেশন করা হয় পোলাও, গরুর মাংস, মুরগির রোস্ট, মিষ্টি, সালাদ, কোমল পানীয় ও পান-সুপারি। এছাড়া যারা গরুর মাংস গ্রহণ করেন না এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বী বন্দিদের জন্য খাসির মাংসের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়। রাতের খাবারে পরিবেশন করা হয় সাদা ভাত, রুই মাছ ভাজা ও আলুর দম।
মৌলভীবাজার জেলা কারাগারের জেলার কাজী মাজহারুল ইসলাম জানান, কারাগার সরকারের একটি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে মাননীয় কারা মহাপরিদর্শক মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কারাগারে আটক বন্দিদের জন্য ঈদের বিশেষ খাবার, জামাতে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা, প্রতিটি বন্দির জন্য একবার করে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ, সরকারি মোবাইল ফোনে কথা বলার সুযোগ এবং বাড়ি থেকে রান্না করা খাবার গ্রহণের সুযোগসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও অদ্য ৩১ মে ২০২৬ তারিখে বন্দিদের জন্য এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যাতে ঈদের আনন্দ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
জেলার কাজী মাজহারুল ইসলাম আরও বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, মানবিক আচরণ, সহমর্মিতা এবং ইতিবাচক পরিবেশ একজন মানুষকে সংশোধিত হয়ে সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারাগার শুধু শাস্তির স্থান নয়; এটি সংশোধন, পুনর্বাসন ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।”
বর্তমানে মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে মোট ৬৬৯ জন বন্দি রয়েছেন বলেও তিনি জানান।
এদিকে ঈদের দিন বন্দি ও তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসা আত্মীয়-স্বজনদের খোঁজখবর নিতে কারাগার পরিদর্শন করেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক জনাব তৌহিদুজ্জামান পাভেল। তিনি কারাগারে গৃহীত বিভিন্ন মানবিক ও কল্যাণমূলক কার্যক্রমের বিষয়ে অবহিত হন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
ঈদের আনন্দ, মানবিকতা ও পুনর্বাসনের বার্তা নিয়ে মৌলভীবাজার জেলা কারাগারের এ আয়োজন বন্দিদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে এবং কারা ব্যবস্থাপনার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।